facebook

Nov 13, 2024

Short Stories (Bangla Edition)

hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image
hilokal-notebook-image

কবিতার নাম: জ্ঞান-পিপাসা জ্ঞান হলো দীপ, আলোর স্রোত, অন্ধকারে জ্বালে স্বপ্নের ছোট। শিক্ষার পথে চলো অটুট, মেধার খনিতে খোঁজো রত্ন। নদী যেমন থামে না পথ, তুমিও থেমো না, ছুটবে সত্ত্ব। গুরুজনদের করো সম্মান, তাঁদের জ্ঞানেই খুলবে জ্ঞানের দ্বার। বইয়ের পাতায় লুকানো ভুবন, তোমার চেষ্টায় হবে তা উন্মোচন। শিখো প্রতিদিন, জানো আরো, জ্ঞান হবে শক্তি, পথ দেখাবে। তাই শিক্ষার্থীর কাজ একটাই, জ্ঞান-পিপাসা রাখো হৃদয় ভরাই। অভিজ্ঞতার মাঝে খুঁজে নাও জীবন, তবেই হবে সত্যিকারের বিজয় অর্জন।

বুড়ো কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল, 'তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে।' শুনে তারও মনে দুঃখ হল। ভাবলে, 'আমি গেলে এদের ঠান্ডা রাখবে কে।' তা বলে মরণ তো এড়াবার জো নেই। তবু দেবতা দয়া করে বললেন, 'ভাবনা কী। লোকটা ভূত হয়েই এদের ঘাড়ে চেপে থাক না। মানুষের মৃত্যু আছে, ভূতের তো মৃত্যু নেই।' দেশের লোক ভারি নিশ্চিন্ত হল। কেন না ভবিষ্যৎকে মানলেই তার জন্যে যত ভাবনা, ভূতকে মানলে কোনো ভাবনাই নেই; সকল ভাবনা ভূতের মাথায় চাপে। অথচ তার মাথা নেই, সুতরাং কারও জন্যে মাথাব্যথাও নেই। তবু স্বভাবদোষে যারা নিজে ভাবতে যায় তারা খায় ভূতের কানমলা। সেই কানমলা না যায় ছাড়ানো, তার থেকে না যায় পালানো, তার বিরুদ্ধে না চলে নালিশ, তার সম্বন্ধে না আছে বিচার। দেশসুদ্ধ লোক ভূতগ্রস্ত হয়ে চোখ বুজে চলে। দেশের তত্ত্বজ্ঞানীরা বলেন, 'এই চোখ বুজে চলাই হচ্ছে জগতের সব চেয়ে আদিম চলা। একেই বলে অদৃষ্টের চালে চলা। সৃষ্টির প্রথম চক্ষুহীন কীটাণুরা এই চলা চলত; ঘাসের মধ্যে, গাছের মধ্যে, আজও এই চলার আভাস প্রচলিত।' শুনে ভূতগ্রস্ত দেশ আপন আদিম আভিজাত্য অনুভব করে। তাতে অত্যন্ত আনন্দ পায়। ভূতের নায়েব ভুতুড়ে জেলখানার দারোগা। সেই জেলখানার দেয়াল চোখে দেখা যায় না। এইজন্যে ভেবে পাওয়া যায় না, সেটাকে ফুটো করে কী উপায়ে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই জেলখানায় যে ঘানি নিরন্তর ঘোরাতে হয় তার থেকে এক ছটাক তেল বেরোয় না যা হাটে বিকোতে পারে, বেরোবার মধ্যে বেরিয়ে যায় মানুষের তেজ। সেই তেজ বেরিয়ে গেলে মানুষ ঠান্ডা হয়ে যায়। তাতে করে ভূতের রাজত্বে আর কিছুই না থাক-অগ্ন হোক, বস্ত্র হোক, স্বাস্থ্য হোক-শাস্তি থাকে। কত-যে শান্তি তার একটা দৃষ্টান্ত এই যে, অন্য সব দেশে ভূতের বাড়াবাড়ি হলেই মানুষ অস্থির হয়ে ওঝার খোঁজ করে। এখানে সে চিন্তাই নেই। কেন-না ওঝাকেই আগেভাগে ভূতে পেয়ে বসেছে। এই ভাবেই দিন চলত, ভূতশাসনতন্ত্র নিয়ে কারও মনে দ্বিধা জাগত না; চিরকালই গর্ব করতে পারত যে, এদের ভবিষ্যৎটা পোষা ভেড়ার মতো ভূতের খোঁটায় বাঁধা, সে ভবিষ্যৎ ভ্যা'ও করে না, ম্যা'ও করে না, চুপ করে পড়ে থাকে মাটিতে, যেন একেবারে চিরকালের মতো মাটি। কেবল অতি সামান্য একটা কারণে একটু মুশকিল বাধল। সেই হচ্ছে এই যে, পৃথিবীর অন্য দেশগুলোকে ভূতে পায়নি। তাই অন্য সব দেশে যত ঘানি ঘোরে তার থেকে তেল বেরোয় তাদের ভবিষ্যতের রথচক্রটাকে সচল করে রাখবার জন্যে, বুকের রক্ত পিষে ভুতের খর্পরে ঢেলে দেবার জন্যে নয়। কাজেই মানুষ সেখানে একেবারে জুড়িয়ে যায়নি। তারা ভয়ংকর সজাগ আছে। এদিকে দিব্যি ঠান্ডায় ভূতের রাজ্য জুড়ে 'খোকা ঘুমোল, পাড়া জুড়োল'। সেটা খোকার পক্ষে আরামের, খোকার অভিভাবকের পক্ষেও। আর পাড়ার কথা তো বলাই আছে। কিন্তু, 'বর্গি এল দেশে'। নইলে ছন্দ মেলে না, ইতিহাসের পদটা খোঁড়া হয়েই থাকে। দেশে যত শিরোমণি চূড়ামণি আছে সবাইকে জিজ্ঞাসা করা গেল, 'এমন হল কেন।' তারা এক বাক্যে শিখা নেড়ে বললে, 'এটা ভূতের দোষ নয়, ভুতুড়ে দেশের দোষ নয়, একমাত্র বর্গিরই দোষ। বর্গি আসে কেন।' শুনে সকলেই বললে, 'তা তো বটেই।' অত্যন্ত সান্ত্বনা বোধ করলে। দোষ যারই থাক, খিড়কির আনাচে-কানাচে ঘোরে ভূতের পেয়াদা, আর সদরের রাস্তায়-ঘাটে ঘোরে অভূতের পেয়াদা; ঘরে গেরস্তর টেকা দায়, ঘর থেকে বেরোবারও পথ নেই। এক দিক থেকে এ হাঁকে, 'খাজনা দাও'। আর-এক দিক থেকে ও হাঁকে, 'খাজনা দাও।' এখন কথাটা দাঁড়িয়েছে 'খাজনা দেব কীসে।' এতকাল উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নানা জাতের বুলবুলি এসে বেবাক ধান খেয়ে গেল, কারও হুঁশ ছিল না। জগতে যারা হুঁশিয়ার এরা তাদের কাছে ঘেঁষতে চায় না, পাছে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। কিন্তু, তারা অকস্মাৎ এদের অত্যন্ত কাছে ঘেঁষে এবং প্রায়শ্চিত্তও করে না। শিরোমণি-চূড়ামণির দল পুঁথি খুলে বলেন, 'বেহুঁশ যারা তারাই পবিত্র, হুঁশিয়ার যারা তারই অশুচি, অতএব হুঁশিয়ারদের প্রতি উদাসীন থেকো, প্রবুদ্ধমিব সুপ্তঃ।' শুনে সকলের অত্যন্ত আনন্দ হয়। কিন্তু তৎসত্ত্বেও এ প্রশ্নকে ঠেকানো যায় না 'খাজনা দেব কীসে'। শ্মশান থেকে মশান থেকে ঝোড়ো হাওয়ায় হা হা করে তার উত্তর আসে, 'আব্রু দিয়ে, ইজ্জত দিয়ে, ইমান দিয়ে, বুকের রক্তস্ত দিয়ে।' প্রশ্নমাত্রেরই দোষ এই যে, যখন আসে একা আসে না। তাই আরো একটা প্রশ্ন উঠে পড়েছে, 'ভূতের শাসনটাই কি অনন্তকাল চলবে।'

By undefined

34 notes ・ 107 views

  • English

  • Beginner